Sponsored

ধোকা পর্ব ০৬ (শেষ পর্ব) লেখক The Story Haven

 ধোকা

পর্ব ০৬ (শেষ পর্ব)
লেখক The Story Haven


লতিফ সাহেবের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে শুরু করেছে। তিনি ভাবতেও পারেননি তার সাজানো নাটক এভাবে ভেস্তে যাবে। আমার বাবা একজন সাধারণ স্কুল শিক্ষক ছিলেন, লতিফ সাহেবের সাথে তার কোনোকালেই কোনো যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু লতিফ সাহেব তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ১৫ বছর আগের এক পুরনো জমি জালিয়াতির ফাইলে মূল অপরা*ধীর নাম সরিয়ে কৌশলে আমার বাবার নাম বসিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, এই ভুয়া ফাইলের ভ*য় দেখালেই আমি ভ*য়ে কুঁকড়ে যাব।
“কী হলো লতিফ সাহেব? চুপ করে গেলেন কেন?” আমি পা বাড়ালাম বাবার গাড়ির দিকে। “আপনি ভেবেছিলেন জালিয়াতি করে একজনের নাম কে'টে আমার বাবার নাম বসিয়ে দিলেই সেটা সত্য হয়ে যাবে? আপনি ভুলে গেছেন, আসল ফাইলের একটা ডিজিটাল কপি এখনো ভূমি অফিসে সংরক্ষিত আছে। আমার সাংবাদিক বন্ধু তানিয়া গতরাতেই সেই অরিজিনাল ফাইলটা বের করে ফেলেছে যেখানে আপনার নিজের লোকের নাম লেখা আছে।”
জাহানারা বেগম এবার মরিয়া হয়ে উঠলেন। তিনি চিৎকার করে আরিয়ানকে বললেন, “আরিয়ান, চুপ করে আছিস কেন? কেড়ে নে ওর ফোন! ও মিথ্যা বলছে!”
আরিয়ান যেই আমার দিকে তেড়ে আসতে চাইল, অমনি গলির দুপাশ থেকে সিভিল পোশাকে থাকা পুলিশ অফিসাররা বেরিয়ে এলেন। তানিয়াও ক্যামেরা হাতে সামনে চলে এল। আরিয়ান আর লতিফ সাহেবের পালানোর সব পথ বন্ধ।
পুলিশ অফিসার লতিফ সাহেবের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। “লতিফ সাহেব, একজন নিরপরাধ মানুষকে অপহরণ করা এবং সরকারি নথিপত্র জালিয়াতির অপরা*ধে আপনাকে এবং আপনার ভাগ্নেকে আমরা আটক করছি। আমাদের কাছে প্রমাণ আছে যে আপনি জেনেশুনে নথিতে নাম পরিবর্তন করেছেন।”
আমি দ্রুত গিয়ে বাবার গাড়ির দরজা খুললাম। বাবা বিধ্বস্ত অবস্থায় ভেতরে বসে ছিলেন। আমাকে দেখে বাবার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। “মা রে, এই লোকগুলো কারা? আমি তো এদের চিনিও না! কেন আমাকে ধরে আনল?”
আমি বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম। “ভয় পেও না বাবা। এদের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গেছে। চলো, তোমাকে বাড়ি নিয়ে যাই।”
তানিয়া তখন ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলছে, “দর্শক, আপনারা দেখছেন ক্ষমতার দাপটে কীভাবে একজন সৎ শিক্ষকের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রযুক্তির যুগে জালিয়াতি করে পার পাওয়া এখন আর সম্ভব নয়।”
পুলিশ আরিয়ান আর লতিফ সাহেবকে হাতকড়া পরাল। আরিয়ান তখন করুণ স্বরে বলতে লাগল, “আমাকে বাঁচাও মা! আমি এসবের কিছু জানি না, সব মামা করেছে!”
কিন্তু জাহানারা বেগম তখন পাথরের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার সাজানো গুছানো আভিজাত্যের প্রাসাদ আজ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। আমি তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।
“শাশুড়ি আম্মা, আপনি বলেছিলেন না—যে ২০ লক্ষ টাকা ফেরত না দিলে আমার বাবাকে জেলে পাঠাবেন? অথচ জালিয়াতিটা আপনারা নিজেরাই করেছেন। এই টাকাটা এখন আপনাদের উকিল লড়তেই শেষ হয়ে যাবে।”
কয়েক মাস পর।
আরিয়ান আর লতিফ সাহেবের জেল হয়েছে। জালিয়াতির প্রমাণ আদালতে দাখিল করার পর বাবার নাম সেই কল*ঙ্কিত ফাইল থেকে চিরতরে মুছে ফেলা হয়েছে। আসাদুল্লাহ সাহেব তাদের কোম্পানি বাঁচাতে আরিয়ানের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন, মেহজাবিন এখন অন্য এক শিল্পপতির সাথে দেশের বাইরে।
আমি আর ধানমন্ডির সেই বাড়িতে ফিরে যাইনি। বাবার সম্মান রক্ষা করতে পেরেছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। আমি এখন তানিয়ার সাথে কাজ করছি এবং নারীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য একটা ছোট প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছি।
ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আজ বিকেলের আকাশটা দেখতে খুব পরিষ্কার লাগছে। ২০ লক্ষ টাকার খামটা আমি ফেরত দেইনি, ওটা এখন আরিয়ানের বিরুদ্ধে মামলার প্রমাণ হিসেবে আদালতে জমা আছে। আমার কাছে এখন কোনো দামী গাড়ি বা পেন্টহাউস নেই, কিন্তু আছে এক আকাশ সমান আত্মসম্মান।
জীবনটা আরিয়ানের জন্য থমকে থাকেনি, বরং এক নতুন তেজে জ্বলে উঠেছে।
— সমাপ্তি —
সম্পূর্ন গল্পটি আপনাদের কাছে কেমন লাগলো আশা করি কমেন্টে জানিয়ে যাবেন প্লিজ। এবং কোন ধরনের গল্প আপনাদের কাছে বেশি ভালো লাগে কমেন্টে জানিয়ে যাবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ